কুকিদের লোককাহিনীতে “বাঘের চালাকি”

কুকিদের লোককাহিনীতে “বাঘের চালাকি”

এককালে এক বিধবার এক মেয়ে ছিল।সে এত সুন্দরী ছিল যে তাকে বিয়ে করার জন্য দেশসুদ্ধ লোক পাগল হয়ে গেল।এক বাঘ জানত এক যাদুমন্ত্র।সে মন্ত্রবলে মানুষের রুপ ধারণ করে তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করলো।বিধবা ভয়ানক রাগান্বিত হলো।বাঘ মানুষটি মন্ত্রবলে মেয়েটিকে কুৎসিত আকারে রুপান্তরিত করলো।এই দশা দেখে বিধবার দুঃখে অন্ত রইলো না।সে ঘোষণা করলো,যে ব্যক্তি তার মেয়েকে ভাল করে দিতে পারবে তার সাথে মেয়েকে বিয়ে দেবেন।আর যদি কোন মেয়েমানুষ এই কাজ সমাধা করতে পারে তবে তাকে চিরদিনের জন্য বান্ধবী করে রাখবে।এইবার বাঘ-মানুষটি অন্য রুপ ধরে বিধবার ঘরে আশ্রয় নিল।কিছুদিন পর সে মন্ত্রবলে মেয়েটি সুস্থ করে তুললো। বাঘ-মানুষটি সাথে বিধবা নিজের মেয়ে বিয়ে দিলেন।দীর্ঘদিন থাকার পর বাঘ-মানুষটি তার স্ত্রীকে নিয়ে দেশে রওয়ানা হলো। কিন্তু পথিমধ্যে এসে বাঘ-মানুষটি নিজের রুপ বদলিয়ে আবার বাঘে পরিণত হলো।এই দৃশ্য দেখে মেয়েটি ভীষণ ভয় পেয়ে চিৎকার করতে শুরু করলো।তখন ফাচিভং ও রাংগচার নামে দুই ভাই অরণ্যভূমিতে জুম কাজে ব্যস্ত ছিল।তারা চিৎকার শুনে সামনে এগিয়ে এসে দেখে একটি বাঘ একটি মেয়েকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। দুই ভাই দা নিয়ে রুখে দাড়ালো মেয়েটিকে রক্ষা করতে।কিন্তু বাঘটি এমন হিংস্র ছিল যে তার ভয়ে বড় ভাই ফাচিভং দূরে সরে পড়লো।কিন্তু ছোট ভাই রাংগচার ছিলেন অত্যন্ত সাহসী । সে বাঘটিকে হত্যা করে মেয়েটিকে রক্ষা করলো।অতঃপর মেয়েটিকে বাড়ি নিয়ে আসার পর বড় ভাই মেয়েটিকে বিয়ে করলো।

_______________ Anonymous

বি:দ্র; খাসিয়া, নাগা ও কুকিদের লোককাহিনীতে বাঘ সম্পর্কে ধারণা।লোককাহিনীতে বাঘের নাম উল্লেখ।