বিঝু তুই নুও গুরি

বিঝু তুই নুও গুরি ফিরি এল আমা ইদু

বিঝু তুই ফিরি এলে

বিঝু তুই ফিরি এলে

নানা রংয়ের সাজি উদে আমা মনানি

আজি-হোজিয়ে ফুদি উদে আমা মনানি

রেঙয়ে -গীদে ভুরি উদে আমা আদামানী

হে হে হে, হো হো হো

ফাগুনোর অতালিয়ে বোয়েরে,কোকিলোর

মিদে সুরে নাজি উদে বেগর মনানি

নানা পোগোর মিদে সুরে

আমা জীংহানি আন যায় রাঙায়ি

হে হে হে, হো হো হো

বিঝু তুই হায় এলে হোজপানায় আজি উদে

বেগ মানেয়োর মনানি

পুরনো বজরর দুঃখানি যায় ভাজি

ফুলে,ফলে ভুরি উদে বেগ আদামানী

চিৎ জুরোনি মিদে গীতে ভুরি যায়

সুগোর জীংহানি।

বিঝু তুই নুও গুরি ফিরি এল আমা ইদু

বিঝু তুই ফিরি এলে

বিঝু তুই ফিরি এলে

হু হু হু,লা লা লা লা।

18/4/21,মনিপাড়া

ফিরে আসবো লোগাঙে

লোগাঙ এর কান্না বুকে সহ্য হয়না,
আমি বারবার লোগাঙ ফিরে যাবো;
ফিরে যেতে চাই আজীবন ধরে।
লোগাঙ আমার প্রাণ
আমার দেহে মিশে আছে
প্রতিটি কোণায় আনাচেকানাচে।
লোগাঙ এর বানডাকা জল;
আমাকে বারবার লোগাঙ ফিরে আসতে বলে।
আসবো সময়ে হলে কোনো এক সন্ধে
নির্ভেজাল হয়ে মহাকাব্য লিখবো বলে।

লোগাঙ নদী

অভিরূপা

নিরবে বারান্দায় বসে বসে ভাবি

অল্প একটু হাওয়ায়;আরো মনে

পড়ে তোমাকে,

অভিরূপা শুধু তোমাকে।

তোমার নরম চোখ,আলতো কাজলে

ঘেরা স্নিগ্ধ কোমলে মুখভার

প্রকৃতিতে সহজে মিশে যায়।

তোমারি দু নয়নে অপলক দৃষ্টি

মুহূর্তে মাতাল করে তোলে

ধরণীর সৃষ্টিকে;হার মেনে

নেয় সহজে এই ধরণীতল।

তীব্র রোদের ঝলকে, মরুভূমি যখন

স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, তোমারি দেখে সব

যায় দূরীভূত হয়ে।

তোমার হাসিতে সিক্ত হয়ে ওঠে

অস্বচ্ছ অপরূপ হৃদয়।

তোমারি মায়ার টানে,হৃদয়ের

নিশীথও জেগে ওঠে।

তাই সারাক্ষণ তোমাকে নিয়ে

ভাবি আর ভাবি

অভিরূপা।

৯/৪/২১

সুদিপ্তা দেওয়ান পাড়া

বিঝু এল

বিঝু আরো ফিরি এল

নুও গরি।

তুই ফিরি এলে

বারি গম লাগে মর।

ফাগুনোর বোয়েরে তুই

ফিরি এজচ নুও গরি।

হোচপানা বয় আনত

বেক মানজোর জীবনত।

গাছে গাছে নুও নুও

পাতা পুদি উদে।

গাছও ধিলায় ধিলায়

নুও ফুল,নুও পাতা

আরও নানা পেগোর

মেলায় অয় উদে ভরপুর।

নানা পেগোর সুরে সুরে

মন পাগল অয় উদে বারবার।

কোকিল ওর মিদে সুরে

ভুরি উদে গোদা চাগালা।

গুরো-বুরোর মনানি

অয় উদে হাজিহুজি।

বারি গুরি গম লাগে

বিঝু তুই এলে।

বার মাসে একবার দেগা

দিলে তুই মন অয় নাজুককাজুক।

বেক মানুজোর হোচপানা

ফিরি এজে নুও গুরি,

বিঝু তুই এবে বিলি।

এলে আরো তুই নুও গুরি

ও বিঝু,ও বিঝু।

২/৪/২১

টিএ্যান্ডটি

ধনপদি হক্কে এবে

তর আজায় এব আগঙ

ধনপদি মুই।

হমলে এবে মহ্ হায়

তর আজায় বাজি তেম

গোদা জীংহানি মুই।

তরে দিগিলে মনান গম লাগে

হোচপানা জাগে।

মনান মর হাজিহুজি তায়

তরে দিগিলে।

তরে বানা হায় তোগায়

হায় চায় মর মনানে।

তোর দোল দি চোখ

মর মনানরে বাজি তিবার

বল দিদে।

তর দোল আজি,

মর মনানরে গরে

ওলোজোলো!

হায় তোগায় বারে বারে তরে

ও ধনপদি আয় মহ্ বুগোত।

দিজনে মিলেনেই বাজি তেবঙ

হাজার ধুরি এই সংসারত।

১/৪/২১

টিএ্যান্ডটি

বানা তরে নিনেই

মনান মর ওলোজলো অয়

তরে মনত উদিলে।

বানা তরে নিনেই তায়

মর দোল মনান।

তরে হোচপায়, তরে গমপায়

মর মনর স্ববনান।

বানা তরে নিনেই স্ববন বুনে

মর মনানে।

তরে ছাড়া হাক্কোনও তেই নহ্

পারে মর পরানান।

দিনেরেদে তরে ভাবি,

চোগত নহ্ অই ঘুম

মুওত নহ্ রুজে ভাদ-পানি

কিয়ে ঘান জায় ভাঙি্।

তো তরে হোচপেনেই

ঘনঘন ভাবে মর মনান।

স্ববন দেগে এব তরে নিনে

হোচপেয়েই মর মনানে।

আয় ফিরি তুই

বানা তরে নিনেই স্ববন বুনিম মুই।

২৯/৩/২১

কল্যাণপুর

লোগাং এর কান্না

অশ্রুধার বন্ধ হয় না,ঝরে যায় ঝরে পড়ে
যেন থামতে চাই না আর।
কান্নার রোল থেমে যেতে চাই,
কিন্তু পারে না থামতে।
অস্থির হয়ে ওঠে আমার দেহ।
যখন উত্তেজিত হয় আমার হৃদয়
উঁকি মারে আমার ওপর বিরানব্বই (৯২) এর কালবৈশাখীর কথা,
হঠাৎ কেন জানি শুরু হয়, কালবৈশাখীর উত্তাপ
শুরু হয় তার লীলাখেলা, তান্ডবে অকালে ঝরে যায় অসংখ্য দুঃসাহসীর প্রাণ।
একে একে ঝরে পড়ে বৃদ্ধ, শিশু,তরুণ -তরুণীর, কিশোর-কিশোরীর প্রাণ।
যেন থামে না মৃত্যুর মিছিল।
ভূতের প্রধান কেন্দ্র হয় আমার বুক।
একে একে চলে যায় সবাই,কেউ উত্তর দেয় না
শুধু প্রশ্ন রেখে যায় ।
হারিয়ে যাবে বলে,
যেন থেমে যায় তাদের কত দুঃসাহসিক স্বপ্ন।
হাহাকার সৃষ্টি হয় ধরণীর বুকে।
কত স্বপ্ন ছিল তাদের,ধরণীকে সাজাতে।
অকালে ঝরে পড়ে তাদের লালিত সুন্দর স্বপ্ন।
আমিও হারায় আমার চেনাজানা আত্মীয় -স্বজনদের।
যারা আমার দেহ পার হয়ে অজানা গন্তব্যে যায়
বিকাল হলে আবার আমার সাথে দেখা করে।
তারাও নির্যাতনের শিকার হয়,তাদেরও প্রাণ দিতে হয় এসবের মাঝে।
হারিয়ে ফেলি
আমার চেনা, আমার জানা প্রিয় মুখদের।
রুপনন্দের মতো সহজ সরল, বাত্ত্যের মতো দুঃসাহসী
আর সাথে নাম না জানা অনেককে।
থমকে যায় আমার মুখ।
সব নিঃশেষ হয় আমার বুক।
খালি হয়ে যায় হৃদপিন্ডের ক্রিয়া।
আমি আজও কাঁদি তাদের স্মৃতি মনে ওঠে।
তাদের সাথে ছিল কত খুনসুটি , ছিল কত মেলবন্ধন।
কতো সুখের ছিল সেইদিনগুলি,
মাঝপথে হারিয়ে ফেলি, সুখের দরজা।
হারিয়ে ফেলি আমার নিশ্বাস
আজ তারাও হারিয়ে যায় আমার বুকে।
খুজে দেখি বুকে,খুজে পাই না কোথাও।
আমার মুখে ভাষা শেষ হয়ে যায়।
উধাও হয়ে যায় আমার কণ্ঠস্বর।
জিম্মি হয় আমার মুখ।
তাই করতে পারিনা অমোক স্মৃতিচারণা।
ইতিহাসের পাতাও নড়ে যায়,আমার বুকে বিরানব্বই এর ছাপ এলে।
আমি আতঙ্কিত, আমি শঙ্কিত, উত্তেজিতও হই।
প্রতিবাদ করি বারবার, কিন্তু সাড়া পাইনি কখনও।
লংমার্চ থেকে লংমার্চ, যেন মনে পড়ে
সেইদিনে লংমার্চ কে কিন্তু মনে রেখেছি এখনও।
খাগড়াছড়ি থেকে আমার আত্মহারা বুক পর্যন্ত।
হাজার হাজার উত্তেজিত তরুণ পা ফেলে আমার বুকের ওপর।
একটু স্বস্তি পাই তাদের দেখে।
কিন্তু সেই স্বস্তি নিশ্বাস এখনও ফেলতে পারিনি বুকে।
যখন পারবো ইতিহাসও হয়তোবা বদলে যাবে
এখনও সেইদিনে অপেক্ষায় আছি আমি।
যখন সবার বুকে লোগাং এর রক্ত স্মৃতি হবে।
অপেক্ষা আছিও যখন লোকে মুখে আমার কথা শুনবো।
পথে ঘাটে বলবে আমার কথা
যখন পথশিশু থেকে শাসকশ্রেণী রাজপূত্ররাও আমায় স্মরণ করবে।
তখন আমি অমোক ভাষণ করবো।
এখনও লোগাং এর অপেক্ষা আছি,
থাকবো চিরদিন।
অনুরোধ একটাই মনে রাখবে সবাই,
যেন সকলে মাঝে আমি স্থান পাই।ছবিতে;লোগাঙ নদী