কর্ণফুলীনদী নামকরণের ইতিহাস

কর্ণফুলীনদী নামকরণের উপাখ্যান

কর্ণফুলীর পূর্ব নাম ছিল কাঁইচা খাল।কি কারণে নদীকে কর্ণফুলী নামকরণ করা হয়,তার
উপাখ্যান ;
কোনো এক সময়ে চট্টগ্রামের এক মুসলমান বাদশাহর বেগম সাহেবার কর্ণফুল নদীগর্ভে পড়ে যায়।বেগম সাহেবা কর্ণফুলটির মায়া কাটাতে না পেরে সেটা তোলবার জন্য নদীর মধ্যে লাফ দিয়ে পড়েন। কিন্তু তার এমনই ভাগ্য যে সেই ফুল উদ্বার করা তো দূরের কথা,তিনি নিজেই নদীতে মৃত্যুবরণ করেন। সেই থেকে কাঁইচা খাল কর্ণফুলী নামে পরিচিত। বেগম সাহেবা কর্ণফুলের পরিবর্তে নিজে জীবন দান করে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
তথ্য;ক্যাপ্টেন হার্বাট লুইনের বিখ্যাত গ্রন্থ A fly on the wheel থেকে নেওয়া।

কর্ণফুলীনদী

‘জামাই মারণী ‘চাকমাদের রুপকথার কাহিনী

_____জামাই মারনী_____

জামাই মারনী হলো চাকমা রুপকথার কাহিনী। এটি মূলত চন্দ্রঘোনার অনতিদূরে কর্ণফুলীনদীর তীরবর্তী সীতা পাহাড় অঞ্চলের জামেই মারনী বা জামাই মারনী স্থানকে কেন্দ্র করে রচিত। এই কাহিনীটি কালের বিবর্তনেও চাকমা সম্প্রদায়ের কাছে এখনও জনপ্রিয় একটি লোককাহিনী। একটি রাজকন্যার জন্য হাজার হাজার রাজপুত্রে আত্মবলিদানও সত্যিই বিস্ময়কর। এতে রয়েছে কালজয়ী বীর- চরিত্র ও আত্মত্যাগে মহিমা।এই কারণে […]

‘জামাই মারণী ‘চাকমাদের রুপকথার কাহিনী

অশ্রু

কে তুমি,তুমি কার?
আমার নাকি আমাদের জনপদে।
তুমি কি হতভাগা দরিদ্র জনগোষ্ঠীতে
না উত্তমলোকের হৃদয়ে,
না আমার শরীরে।
তুমি নিবরে ভালবাসো সকলকে
তুমি রয়েছ পার্বত্য জনপদে প্রতিটি পদক্ষেপে
তোমার পা পড়েছে আমার দেহে
তুমি উলঙ্গ হয়ে জড়িয়ে আছ আমার
সশরীরে।
তুমি কেন আমার পরম বন্ধু হলে,
ছেয়ে আছো দানবের ভেসে
সূর্যের তীব্র রশ্মির তেজের মতো সেঁজে।
আমার কাছে আছো, যেন কারও
অভিশাপের অভিসপ্ত হয়ে।
তুমি কি বিলীন হবেন।
না কোনদিন চলে যাবে না
আমার থেকে।
নাকি রয়ে যাবে আমার মত খেতে খাওয়ার মানুষের দেহে।
তুমি তো আছ লোগাং থেকে লংগুদু হয়ে
নানিয়ারচর হতে রামুর তটভূমিতে।
তোমার বিস্তৃতিতে অস্থির হয়ে ওঠে
আমার দেহের প্রাণ
তুমি কি চিরজীবী নাকি চির অম্লান।
বেঁছে আছো আমার হতভাগার ঘরে
তুমি ঘিরে ধরেছো সমুদ্রের ঢেউ এ মত
আমার মনকে।
তুমি কেন আমাকে বারবার
তোমার ভালবাসায় সিক্ত করো।
তোমার ভালবাসায় আমি আজ অনুরক্ত আর বিরক্ত।
তুমি আর ভালবেসো না
আমার হৃদয়কে।

৫ই জুন ২০২০)

লোগাং এর কান্না

অশ্রুধার বন্ধ হয় না,ঝরে যায় ঝরে পড়ে
যেন থামতে চাই না আর।
কান্নার রোল থেমে যেতে চাই,
কিন্তু পারে না থামতে।
অস্থির হয়ে ওঠে আমার দেহ।
যখন উত্তেজিত হয় আমার হৃদয়
উঁকি মারে আমার ওপর বিরানব্বই (৯২) এর কালবৈশাখীর কথা,
হঠাৎ কেন জানি শুরু হয়, কালবৈশাখীর উত্তাপ
শুরু হয় তার লীলাখেলা, তান্ডবে অকালে ঝরে যায় অসংখ্য দুঃসাহসীর প্রাণ।
একে একে ঝরে পড়ে বৃদ্ধ, শিশু,তরুণ -তরুণীর, কিশোর-কিশোরীর প্রাণ।
যেন থামে না মৃত্যুর মিছিল।
ভূতের প্রধান কেন্দ্র হয় আমার বুক।
একে একে চলে যায় সবাই,কেউ উত্তর দেয় না
শুধু প্রশ্ন রেখে যায় ।
হারিয়ে যাবে বলে,
যেন থেমে যায় তাদের কত দুঃসাহসিক স্বপ্ন।
হাহাকার সৃষ্টি হয় ধরণীর বুকে।
কত স্বপ্ন ছিল তাদের,ধরণীকে সাজাতে।
অকালে ঝরে পড়ে তাদের লালিত সুন্দর স্বপ্ন।
আমিও হারায় আমার চেনাজানা আত্মীয় -স্বজনদের।
যারা আমার দেহ পার হয়ে অজানা গন্তব্যে যায়
বিকাল হলে আবার আমার সাথে দেখা করে।
তারাও নির্যাতনের শিকার হয়,তাদেরও প্রাণ দিতে হয় এসবের মাঝে।
হারিয়ে ফেলি
আমার চেনা, আমার জানা প্রিয় মুখদের।
রুপনন্দের মতো সহজ সরল, বাত্ত্যের মতো দুঃসাহসী
আর সাথে নাম না জানা অনেককে।
থমকে যায় আমার মুখ।
সব নিঃশেষ হয় আমার বুক।
খালি হয়ে যায় হৃদপিন্ডের ক্রিয়া।
আমি আজও কাঁদি তাদের স্মৃতি মনে ওঠে।
তাদের সাথে ছিল কত খুনসুটি , ছিল কত মেলবন্ধন।
কতো সুখের ছিল সেইদিনগুলি,
মাঝপথে হারিয়ে ফেলি, সুখের দরজা।
হারিয়ে ফেলি আমার নিশ্বাস
আজ তারাও হারিয়ে যায় আমার বুকে।
খুজে দেখি বুকে,খুজে পাই না কোথাও।
আমার মুখে ভাষা শেষ হয়ে যায়।
উধাও হয়ে যায় আমার কণ্ঠস্বর।
জিম্মি হয় আমার মুখ।
তাই করতে পারিনা অমোক স্মৃতিচারণা।
ইতিহাসের পাতাও নড়ে যায়,আমার বুকে বিরানব্বই এর ছাপ এলে।
আমি আতঙ্কিত, আমি শঙ্কিত, উত্তেজিতও হই।
প্রতিবাদ করি বারবার, কিন্তু সাড়া পাইনি কখনও।
লংমার্চ থেকে লংমার্চ, যেন মনে পড়ে
সেইদিনে লংমার্চ কে কিন্তু মনে রেখেছি এখনও।
খাগড়াছড়ি থেকে আমার আত্মহারা বুক পর্যন্ত।
হাজার হাজার উত্তেজিত তরুণ পা ফেলে আমার বুকের ওপর।
একটু স্বস্তি পাই তাদের দেখে।
কিন্তু সেই স্বস্তি নিশ্বাস এখনও ফেলতে পারিনি বুকে।
যখন পারবো ইতিহাসও হয়তোবা বদলে যাবে
এখনও সেইদিনে অপেক্ষায় আছি আমি।
যখন সবার বুকে লোগাং এর রক্ত স্মৃতি হবে।
অপেক্ষা আছিও যখন লোকে মুখে আমার কথা শুনবো।
পথে ঘাটে বলবে আমার কথা
যখন পথশিশু থেকে শাসকশ্রেণী রাজপূত্ররাও আমায় স্মরণ করবে।
তখন আমি অমোক ভাষণ করবো।
এখনও লোগাং এর অপেক্ষা আছি,
থাকবো চিরদিন।
অনুরোধ একটাই মনে রাখবে সবাই,
যেন সকলে মাঝে আমি স্থান পাই।