ফিরে আসবো লোগাঙে

লোগাঙ এর কান্না বুকে সহ্য হয়না,
আমি বারবার লোগাঙ ফিরে যাবো;
ফিরে যেতে চাই আজীবন ধরে।
লোগাঙ আমার প্রাণ
আমার দেহে মিশে আছে
প্রতিটি কোণায় আনাচেকানাচে।
লোগাঙ এর বানডাকা জল;
আমাকে বারবার লোগাঙ ফিরে আসতে বলে।
আসবো সময়ে হলে কোনো এক সন্ধে
নির্ভেজাল হয়ে মহাকাব্য লিখবো বলে।

লোগাঙ নদী

অভিরূপা

নিরবে বারান্দায় বসে বসে ভাবি

অল্প একটু হাওয়ায়;আরো মনে

পড়ে তোমাকে,

অভিরূপা শুধু তোমাকে।

তোমার নরম চোখ,আলতো কাজলে

ঘেরা স্নিগ্ধ কোমলে মুখভার

প্রকৃতিতে সহজে মিশে যায়।

তোমারি দু নয়নে অপলক দৃষ্টি

মুহূর্তে মাতাল করে তোলে

ধরণীর সৃষ্টিকে;হার মেনে

নেয় সহজে এই ধরণীতল।

তীব্র রোদের ঝলকে, মরুভূমি যখন

স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, তোমারি দেখে সব

যায় দূরীভূত হয়ে।

তোমার হাসিতে সিক্ত হয়ে ওঠে

অস্বচ্ছ অপরূপ হৃদয়।

তোমারি মায়ার টানে,হৃদয়ের

নিশীথও জেগে ওঠে।

তাই সারাক্ষণ তোমাকে নিয়ে

ভাবি আর ভাবি

অভিরূপা।

৯/৪/২১

সুদিপ্তা দেওয়ান পাড়া

তুই বিঝু

ফাগুনোর বোয়েরো লগে তুইও

দেখা দোচ্চি বিঝু;আমার সমাজ ওট

ঝুরোঝুরো মিদেমিদে বোয়েরত

তুই মিজি জাদ আমা লগে।

শিমেই ফুল আর কৃষ্ণছড়া ফুলোর বাজে

সাজি উদে গোদা আদামান।

ভালক বাবত্তে ফুল লোয় সাজি যায়

আমা আদামান!

বারি সিৎ বিজে মর, বিঝু তুই এলে।

আদামর থুম সঙ সাজি উদে

ফুলেফুলে, পোগো গীদে

নাজি উদে মানজোর দোল মন।

রিবেক ফুলোর তুমবাজে আওলপাওল

অয় মন;কোকিলোর মিদে সুর

শুনিলে মন উদে বিঝু তরে।

হাত্তল পোগোক পেগেয়েও জানে

দে আমারে বিঝু তুই এলে।

নুও নুও স্ববন বুনোঙ বিঝু তুই এলে।

আয় বিঝু আমা ইদু।

৬/৪/২১

সুদিপ্তা দেওয়ান পাড়া

দোচ্চি-দোত্তি(হুরোহুত্তে উন হন)

শেষ চাই

তোমার সাথে আর যদি

কোনদিন সাক্ষাৎ হয়!

তীক্ষ্ণ কোন সময়ে তখনি

তোমাকে শুনাবো মহাকাব্যের

বিরল কাহিনী আর লোমহর্ষ

বিভীষিকার গল্প।

তুমি বুঝবে কিনা তবে

জানি না আর সবে।

তোমার নিশ্বাস থাকবে কিনা

হৃদয়ে তরঙ্গের।

তোমার উৎপল হাসি

সেদিন যাবে কিনা হারিয়ে

কোন পথের প্রান্তে

শেষ সীমানার কাছে।

তুমি বুঝবে তখনি

সব শেষ হয়ে যাবে।

৩/৪/২১

রাজমনি পাড়া

মুক্তির পথে

নবদিগন্তে নতুনত্ব খোঁজে

হারিয়ে গেছি বহুদূর।

দাসত্বে সীমান পেরিয়ে

শক্ত হাতে মুষ্টি বদ্ধ করে

পৌঁছেছি নির্জন এক মহাসাগরে।

ঢেউর তরঙ্গের শব্দে কম্পিত

শরীরের বাহু,আর স্নায়ু।

তরতাজা রক্তে মিছে

একাকার রাস্তার ধার।

উৎকণ্ঠিত বাহু সবার

সংগ্রামে উদ্যম, তেজে মহান

স্বয়ং মৃত্যুও ধরাশায়ী আজ।

তবুও হারবে না সে

জয়ের জন্য যিনি আজও অকুতোভয়

তাকে আর কে শয্যাশয়ী করে।

২/৪/২১

টিএ্যান্ডটি

বিঝু এল

বিঝু আরো ফিরি এল

নুও গরি।

তুই ফিরি এলে

বারি গম লাগে মর।

ফাগুনোর বোয়েরে তুই

ফিরি এজচ নুও গরি।

হোচপানা বয় আনত

বেক মানজোর জীবনত।

গাছে গাছে নুও নুও

পাতা পুদি উদে।

গাছও ধিলায় ধিলায়

নুও ফুল,নুও পাতা

আরও নানা পেগোর

মেলায় অয় উদে ভরপুর।

নানা পেগোর সুরে সুরে

মন পাগল অয় উদে বারবার।

কোকিল ওর মিদে সুরে

ভুরি উদে গোদা চাগালা।

গুরো-বুরোর মনানি

অয় উদে হাজিহুজি।

বারি গুরি গম লাগে

বিঝু তুই এলে।

বার মাসে একবার দেগা

দিলে তুই মন অয় নাজুককাজুক।

বেক মানুজোর হোচপানা

ফিরি এজে নুও গুরি,

বিঝু তুই এবে বিলি।

এলে আরো তুই নুও গুরি

ও বিঝু,ও বিঝু।

২/৪/২১

টিএ্যান্ডটি

তোমায় দেখে

নিদ্রাহীন এক সন্ধে,

আলোর দিকে তাকিয়ে

দেখি তোমার মুখাকৃতি।

সতেজে ভরা রুপ,

স্নেহের অপরূপ, সৌন্দর্যের মহীয়ান।

আকাশের মতো বিশাল

মাপা হয়না কোন কালে।

অস্থি তরতরে, নিশ্বাসপ্রশ্বাস ওলটপালট

দেহে আলসেমির আলতো ছায়া!

তবুও যায় না ছোঁয়া।

বিমোহিত করে প্রাণের ক্ষুধাকে

ফুটন্ত প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয় প্রাণে।

তোমার ছায়া ধরবে বলে

সে তো আজও দাড়িয়ে থাকে।

অদৃশ্য ভালবাসা!

ভালবেসে ছিলাম তোকে

বলতে পারিনি সময়ের বিবর্তনে।

হারিয়ে গেছে আমার মন

তোমাকে মন পড়ে।

মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে

তোমাকে আবার দেখবো বলে।

প্রাণহীন দেহ যেন পড়ে আছে

রাস্তার ধারে।

সন্ধিক্ষণে ভাবি তোমারি

মুখমণ্ডলীয় আবরণকে

সৌন্দর্যময় চেহারাযুক্ত তোমারি

সারাটা শরীর,

আমাকে করে সংকুচিত

এক এক ভেসে তোলো

আমার রন্ধ্র।

আমার ভালবাসাটা থাকবে চিরকাল

স্মরণীয় হয়ে।

৩০/৩/২১

কল্যাণপুর

তোমার অপেক্ষায়

অপেক্ষায় আছি বছর পর বছর ধরে,

ক্ষণে ক্ষণে উদাসীন হয়ে

সারা শরীর গেছে চুকিয়ে;

হৃদয়ে জানালাও আজ বন্ধ হয়ে গেছে

তোমায় ভাবতে ভাবতে।

অতৃপ্ত মন আজও কাঁদে

তোমায় যখন মনে পড়ে।

তোমার হাঁসি চাঁদের মতো স্বচ্ছ

মুহূর্তে হৃদয়কে করো আচ্ছন্ন।

তোমার চোখের পলকের দৃষ্টি

সূর্যের চেয়েও প্রখর।

তোমার সৌন্দর্যে ক্ষেপে ওঠে

ভূপৃষ্ঠের গর্ভস্থ।

আর আমাকে করে আড়ষ্ট।

তোমাতে মুগ্ধ আমার

হৃদয়ের স্নায়ু ।

আজও তোমাকে ভাবি আমার প্রাণে!

কবে দেখা পাবো গো,

সেই অচেনা হৃদয়কে।

শুধু তোমার অপেক্ষায় আছি

কিছু বলবো বলে।

সেই অপেক্ষা কবে অবসান হবে

হৃদয়ে এখনো জানা নেই

শুধু আছি আমি তোমার অপেক্ষায়।

তারিখ:২৮/৩/২১

কল্যাণপুর

ধর্মান্ধ, উগ্রবাদীদের থামাতে না পারলে আফগানিস্তানের চেয়েও ভয়ংকর হবে বাংলাদেশের অবস্থা। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা,ধর্ষণ, ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়া,লুট করা এদের স্বভাব।৭১সালেও এরা একই অবস্থা কায়েম করেছিল আজও সেই স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
২০১৫ সালে মোদি যখন বাংলাদেশ আসে তখন এই হেফাজত, জামায়াত শিবির তো মোদিকে ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। তখন কোথায় ছিল আপনাদের এই,আন্দোলন, ঘৃণা, হিংসা, বিদ্বেষ? গত কয়েক বছর আগে সৌদি আরব, কাতার,সংযুক্ত আরব আমিরাতের মত মুসলিম দেশ মোদিকে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার দেয়। তখন কোথায় ছিল এই আন্দোলন বিদ্বেষ ? ধর্ম এবং মসজিদকে দোহাই দিয়ে ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িকতা,জঙ্গি গোষ্ঠি মতো কর্মকাণ্ড করে কত নোংরামি করবে?, আর কত নিরীহ নিষ্পাপ মানুষের রক্ত দিয়ে শরীরকে ধৌত করবে? ধর্মান্ধদের হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃনার জন্য আজ বিশ্বের প্রতিটা মুসলিম দেশ নরকে পরিনত হয়েছে।নাইজেরিয়া, মিশর, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, ইয়েমেন কোন দেশে ভাল আছে মুসলিমরা? ধর্মান্ধদের হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃনার জন্য আজকে মধ্যপ্রাচ্যর কোটি কোটি মুসলিম বাস্তুহারা, গৃহহারা।ধর্মান্ধ ধর্মীয় গোড়ামী পেছনে না থেকে আরব আমিরাত,কাতার,কুয়েত বিশ্বের ধনীদের কাতারে পৌঁছেছে।আর বেশি ধর্মীয় গোড়ামীতে আবদ্ধ থাকায় আফগানিস্তান অবস্থান এখন কোথায় কে না জানে।
বাংলাদেশকে ২য় আফগানিস্তান হিসেবে দেখতে চাই না।