ধনপদি হক্কে এবে

তর আজায় এব আগঙ

ধনপদি মুই।

হমলে এবে মহ্ হায়

তর আজায় বাজি তেম

গোদা জীংহানি মুই।

তরে দিগিলে মনান গম লাগে

হোচপানা জাগে।

মনান মর হাজিহুজি তায়

তরে দিগিলে।

তরে বানা হায় তোগায়

হায় চায় মর মনানে।

তোর দোল দি চোখ

মর মনানরে বাজি তিবার

বল দিদে।

তর দোল আজি,

মর মনানরে গরে

ওলোজোলো!

হায় তোগায় বারে বারে তরে

ও ধনপদি আয় মহ্ বুগোত।

দিজনে মিলেনেই বাজি তেবঙ

হাজার ধুরি এই সংসারত।

১/৪/২১

টিএ্যান্ডটি

তোমায় দেখে

নিদ্রাহীন এক সন্ধে,

আলোর দিকে তাকিয়ে

দেখি তোমার মুখাকৃতি।

সতেজে ভরা রুপ,

স্নেহের অপরূপ, সৌন্দর্যের মহীয়ান।

আকাশের মতো বিশাল

মাপা হয়না কোন কালে।

অস্থি তরতরে, নিশ্বাসপ্রশ্বাস ওলটপালট

দেহে আলসেমির আলতো ছায়া!

তবুও যায় না ছোঁয়া।

বিমোহিত করে প্রাণের ক্ষুধাকে

ফুটন্ত প্রদীপ জ্বালিয়ে দেয় প্রাণে।

তোমার ছায়া ধরবে বলে

সে তো আজও দাড়িয়ে থাকে।

অদৃশ্য ভালবাসা!

ভালবেসে ছিলাম তোকে

বলতে পারিনি সময়ের বিবর্তনে।

হারিয়ে গেছে আমার মন

তোমাকে মন পড়ে।

মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে

তোমাকে আবার দেখবো বলে।

প্রাণহীন দেহ যেন পড়ে আছে

রাস্তার ধারে।

সন্ধিক্ষণে ভাবি তোমারি

মুখমণ্ডলীয় আবরণকে

সৌন্দর্যময় চেহারাযুক্ত তোমারি

সারাটা শরীর,

আমাকে করে সংকুচিত

এক এক ভেসে তোলো

আমার রন্ধ্র।

আমার ভালবাসাটা থাকবে চিরকাল

স্মরণীয় হয়ে।

৩০/৩/২১

কল্যাণপুর

বানা তরে নিনেই

মনান মর ওলোজলো অয়

তরে মনত উদিলে।

বানা তরে নিনেই তায়

মর দোল মনান।

তরে হোচপায়, তরে গমপায়

মর মনর স্ববনান।

বানা তরে নিনেই স্ববন বুনে

মর মনানে।

তরে ছাড়া হাক্কোনও তেই নহ্

পারে মর পরানান।

দিনেরেদে তরে ভাবি,

চোগত নহ্ অই ঘুম

মুওত নহ্ রুজে ভাদ-পানি

কিয়ে ঘান জায় ভাঙি্।

তো তরে হোচপেনেই

ঘনঘন ভাবে মর মনান।

স্ববন দেগে এব তরে নিনে

হোচপেয়েই মর মনানে।

আয় ফিরি তুই

বানা তরে নিনেই স্ববন বুনিম মুই।

২৯/৩/২১

কল্যাণপুর

তোমার অপেক্ষায়

অপেক্ষায় আছি বছর পর বছর ধরে,

ক্ষণে ক্ষণে উদাসীন হয়ে

সারা শরীর গেছে চুকিয়ে;

হৃদয়ে জানালাও আজ বন্ধ হয়ে গেছে

তোমায় ভাবতে ভাবতে।

অতৃপ্ত মন আজও কাঁদে

তোমায় যখন মনে পড়ে।

তোমার হাঁসি চাঁদের মতো স্বচ্ছ

মুহূর্তে হৃদয়কে করো আচ্ছন্ন।

তোমার চোখের পলকের দৃষ্টি

সূর্যের চেয়েও প্রখর।

তোমার সৌন্দর্যে ক্ষেপে ওঠে

ভূপৃষ্ঠের গর্ভস্থ।

আর আমাকে করে আড়ষ্ট।

তোমাতে মুগ্ধ আমার

হৃদয়ের স্নায়ু ।

আজও তোমাকে ভাবি আমার প্রাণে!

কবে দেখা পাবো গো,

সেই অচেনা হৃদয়কে।

শুধু তোমার অপেক্ষায় আছি

কিছু বলবো বলে।

সেই অপেক্ষা কবে অবসান হবে

হৃদয়ে এখনো জানা নেই

শুধু আছি আমি তোমার অপেক্ষায়।

তারিখ:২৮/৩/২১

কল্যাণপুর

ধর্মান্ধ, উগ্রবাদীদের থামাতে না পারলে আফগানিস্তানের চেয়েও ভয়ংকর হবে বাংলাদেশের অবস্থা। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা,ধর্ষণ, ঘর-বাড়িতে আগুন দেয়া,লুট করা এদের স্বভাব।৭১সালেও এরা একই অবস্থা কায়েম করেছিল আজও সেই স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
২০১৫ সালে মোদি যখন বাংলাদেশ আসে তখন এই হেফাজত, জামায়াত শিবির তো মোদিকে ফুলের মালা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। তখন কোথায় ছিল আপনাদের এই,আন্দোলন, ঘৃণা, হিংসা, বিদ্বেষ? গত কয়েক বছর আগে সৌদি আরব, কাতার,সংযুক্ত আরব আমিরাতের মত মুসলিম দেশ মোদিকে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার দেয়। তখন কোথায় ছিল এই আন্দোলন বিদ্বেষ ? ধর্ম এবং মসজিদকে দোহাই দিয়ে ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িকতা,জঙ্গি গোষ্ঠি মতো কর্মকাণ্ড করে কত নোংরামি করবে?, আর কত নিরীহ নিষ্পাপ মানুষের রক্ত দিয়ে শরীরকে ধৌত করবে? ধর্মান্ধদের হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃনার জন্য আজ বিশ্বের প্রতিটা মুসলিম দেশ নরকে পরিনত হয়েছে।নাইজেরিয়া, মিশর, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্তান, ইয়েমেন কোন দেশে ভাল আছে মুসলিমরা? ধর্মান্ধদের হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃনার জন্য আজকে মধ্যপ্রাচ্যর কোটি কোটি মুসলিম বাস্তুহারা, গৃহহারা।ধর্মান্ধ ধর্মীয় গোড়ামী পেছনে না থেকে আরব আমিরাত,কাতার,কুয়েত বিশ্বের ধনীদের কাতারে পৌঁছেছে।আর বেশি ধর্মীয় গোড়ামীতে আবদ্ধ থাকায় আফগানিস্তান অবস্থান এখন কোথায় কে না জানে।
বাংলাদেশকে ২য় আফগানিস্তান হিসেবে দেখতে চাই না।

ভাষা খোঁজে মাতৃভাষা

ভাষাই যেন মানুষের প্রাণ ।প্রতিটি মানুষের তার মূল পরিচয় ভাষার মাধ্যমে।আর জাতীয় পরিচয়ও রচিত হয় ভাষার মাধ্যমে।এই আজব পৃথিবীতে কতো নাম না জানার ভাষা রয়েছে।যার হিসাব সহজে মেলেনা। যার উৎপত্তির স্থলও জানা নেই।কোথায় জন্ম হয়েছে ভাষা?কারাই বা প্রথম ব্যবহারকারী? বা কোন মানব-মানবীরা প্রচলন করে ছিল ভাষা?
কোথা থেকে এলো ভাষা? নাকি কল্পিত স্বর্গ থেকে এসে পৃথিবীর বুকে স্থান করে নিল।নাকি দেবতারা দেবালয় থেকে নিয়ে এসেছিল ধরণীর বুকে।
ভাষা কেন আমাদের এত আপন করে নিল।কেনই বা আমাদের প্রাণ হয়ে উঠলো।যার ইতিহাস এখনো জানা যায়নি।যাকে নিয়ে অনেক ইতিহাস,কবিতা,গল্প বা নাটক রচিত হয়েছিল।
মানুষের প্রাণে সুখ,দুঃখ, আনন্দ, বেদনা,হাসি,কান্না প্রভৃতি ভার জন্মে।আমরা বিভিন্ন উপায়ে সেই ভাবগুলো অন্যের কাছে প্রকাশ করি।উদাহরণস্বরুপ,অবুঝ শিশু যেমন নিজের ভাব কান্নার মাধ্যমে মায়ের করে জানান দেয় অথবা বাকশক্তিহীন মানুষ যেভাবে ইশারা -ইঙ্গিতের মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ করে।এভাবে এক একজন মানুষ এক একভাবে নিজের ভাব প্রকাশ করে।
ভাষা সংস্কৃত “ভাষ”* ধাতু থেকে এসেছে,যার অর্থ বলা। তো বলতে পারি ভাষা হলো সেই বস্তু যাকে বলা যায়।আসলেই ভাষা বলতে বোঝায়,যা আমরা শুনি, বলি আর বুঝি।
মানুষের মনে ভাব প্রকাশে জন্য বাগযন্ত্রে সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিকে আমরা ভাষা বলি। ভাষাকে পণ্ডিতরা নানা ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
মহান দার্শনিক প্লেটো বলেছেন,ভাব আর ভাষার মধ্য পার্থক্য অতি সামান্য। ভাব আত্ম মূক বা ধ্বন্যাত্মক ভাষা এবং তাই যখন ধ্বন্যাত্মক হয়ে আমাদের মুখ দ্বারা প্রকাশ হয় তাকেই ভাষা বলে।
ভাষাবিদ নোয়াম চমস্কি বলেছেন,I will consider a language to be a set(finite or infinite) of sentences,each finite in language an constructed of a finite set o elements.
(আপাতত ভাষাপন্ডিত শহীদুল্লাহ, সুনীতিকুমার উক্তি বাদ)

কোথা থেকে এসেছে আমাদের ভাষা?আমাদের ভাষা কি বীজ থেকে জন্ম হয়েছিল? না, গাছপালার মত যততত্র জন্ম হয়েছিল।নাকি মানুষের মত জন্মে ছিল।এর ইতিহাস জানা বড়ই দুর্ভেদ্য। হাজার বছর আগে আমাদের ভাষা বর্তমানে রুপে ছিল না আর ভবিষ্যতে হাজার বছর পরেও বর্তমান রুপে থাকবেনা। ভাষার রুপ বদলে যায়,আর অর্থের বদল ঘটে।অতীতে হাজার বছর আগেও আমাদের ভাষায় রচিত হয়েছিল গান,কবিতা আর গল্প। হয়তো কালের পরিক্রমায় সেগুলো হারিয়ে গেছে।এখন রচিত কবিতায় গুলো হারিয়ে যাবে সময়ের সাথে সাথে।তবে এগুলো অলিখিত স্মৃতি হয়ে থাকবে শুধু।
চাকমা জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা চাকমা।মারমাদের মারমা, বাঙালিদের বাঙাল।
আমি চাকমা বলে আমার মাতৃভাষা চাকমা।আমার ভাষা রুপে, সৌন্দর্য, সুরভী ছন্দে আমি মুগ্ধ হই।ঠিক তেমনি অন্যান্য জনগোষ্ঠীরাও নিজের মাতৃভাষা উচ্ছ্বাসিত। পৃথিবীতে অনেক ভাষা আছে।তবে সেগুলো মাতৃভাষা মত এত রুপ আর শোভা নেই।আমি তার সৌন্দর্যে অন্ধ হয়ে যায়।তার স্পর্শে আমার ঘা আলোকিত হয়।তার হাওয়ায় আমি পাগল হয়ে যায়।তার ছন্দে আমার কণ্ঠস্বর কেপে ওঠে।আমার সুখ বয়ে আছে রৌদ্রতেজের মত উচ্ছ্বাসিত হয়ে। আমার শক্তি তীব্রতা হার মানে আমার মাতৃভাষায় স্পর্শে।এজন্য বলি আমার কাছে মাতৃভাষা মতো আর কোনো ভাষা নেই।চাকমা আমার ভাষা।আমার মায়ের ভাষা।বাবার ভাষা।আমার সমাজের ভাষা।আমার পরিচয়।আমার বার্তা আর আমার অহংকার। আমায় মাতৃভাষা আমার বেদনাকে ভূলুণ্ঠিত করে।আমার ভাষায় ময়ূরপঙ্খি মত নেচে ওঠে আমার হৃদয়।আমার হাসি আর কান্না থরোথরো করে মাতৃভাষায়।আর কোনো ভাষা আমাকে এত আকৃষ্ট করে না।
আমার ভাষা মায়ে মুখের মতো সুভাষী। তার অশ্রুর মতো কোমল।কখনো কখনো অন্য রুপ নিয়ে সে আমাকে আচ্ছাদিত করে। মুগ্ধ করে আমাকে আর প্রকৃতির সৌন্দর্যকে।
মাতৃভাষা মায়ের মতো করে আগলে রাখে কোনো জাতিসত্তাকে। তার পরিচয় বহনে সহায়তা করে। আমাদের অন্যদের সাথে মিশতে সাহায্য করে সেটিই হলো ভাষা অথবা মাতৃভাষা।আসলেই আজ মাতৃভাষার ইতিহাস খুঁজে শরীরে পিপাসা মেটে না।

*ভাষা সংস্কৃত” ভাষ” ধাতু থেকে এসেছে।অর্থাৎ ভাষা মানে বলা(বাংলাএকাডেমি,বাংলাপিডিয়া)

চুক্তি নাকি প্রতারণা!

চুক্তি নাকি প্রতারণা!

আজ ২রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি দিবস। যা জুম্ম জনগণের কাছে এক ঐতিহাসিক দিন।শুধু জুম্ম জনগণের কাছে ঐতিহাসিক দিন বললে ভুল হবে, প্রকৃত পক্ষে এই দিনটি সারা বাংলাদেশের জনগণের কাছে এক ঐতিহাসিক দিন আর মাইলফলক। দীর্ঘ দু দশক সশস্ত্র জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আছে হাজার হাজার জুম্ম যোদ্ধা।তাদের স্বপ ছিল আকাশ ভরা তারা আর সূর্যের উজ্জ্বল রশ্মির মতো বাকি জীবন অতিবাহিত করার।যারা একসময় পরিবার,পরিজন,আত্মী-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল নির্জন পাহাড়ে সশস্ত্র লড়াইয়ে জীবনে ।যারা নিজের জীবনকে তুচ্ছ ভেবে সমাজ,জাতির অধিকার আদায়ে পক্ষে লড়াই করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল। যারা ত্যাগ করেছিল প্রেম,ভালবাসা আর বন্ধনের আবদ্ধ থাকা এইসব মোহকে।যারা একসময় যুদ্ধ আর সংঘর্ষকে ভালবেসে ছিল তাদেরও জেগেছিল শান্তির পায়তারা। ধ্বনিত হয়েছিল যুদ্ধ নয়,শান্তি চাই।
আজ থেকে ২৩ বছর আগে বাংলাদেশ সরকার(তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ) আর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।যাকে পার্বত্যচুক্তি নামে আখ্যায়িত করা হয়।চুক্তিতে মোট ৭২ধারা লিপিবদ্ধ করা হয়।পার্বত্য চুক্তির দীর্ঘ ২৩ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও মৌলিক বিষয়গুলো এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে।যা ফল এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিফলিত হচ্ছে। চুক্তি অবাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্যবাসীর জীবনযাত্রা মানে প্রভাব পড়ছে। এখনও পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্জিত হয়নি রাজনৈতিক আর শান্তিপূর্ণ সমাধান।দিনদিন বাড়ছে সংঘর্ষ আর সংঘাত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন বিষয় ও কার্যাবলী কার্যকরণ এবং পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা,পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করণ,আভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তু ও প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের জায়গা-জমি প্রত্যপর্ণ ও তাদের নিজস্ব জমিতে পুনর্বাসন, সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার, অস্থানীয়দের নিকট প্রদত্ত ভূমি ইজারা বাতিল করা,পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকুরীতে জুম্মদের অগ্রাধিকার দেয়া, সেটেলার বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সম্মানজনক ভাবে পুনর্বাসন ইত্যাদি বিষয়গুলো বাস্ততবায়নে সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।বরং বাস্ততবায়ন করা নাম করে অবাস্তবায়িত রাখা ইত্যাদির অজুহাত পার্বত্য চট্টগ্রাম বসাবাসরত জুম্মদের উদ্বিগ্ন তুলছে।
চুক্তি মৌলিক বিষয়গুলো অবাস্তবায়িত হওয়ার কারণে সমন্বয় ঘটেনি আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের শাসনব্যবস্থায়।বর্তমানে দলীয় প্রভাবের ভাটা পড়েছে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে।যার কারণে বিভিন্ন চাকুরীর জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে দলীয় প্রভাব।দুর্নীতির কারণে নিয়োগ পাচ্ছে অদক্ষ জনগোষ্ঠী।প্রতিক্ষণে ঝরে পড়ছে মেধাবীরা শিক্ষার্থীরা। চরম দুর্নীতি, অনিয়ম আর দলীয়করণের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থাকে চরম সংকটে দিকে ধাবিত করছে।বেকারত্বের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপে। ইউএনডিপির প্রাথমিক স্কুলকেও জাতীয়করণ করার উদ্যোগ করতে হবে সরকারকে।যাতে জুম্ম জনগোষ্ঠী শিক্ষায় আলোয় এগিয়ে যেতে পারে।নিয়োগ করতে হবে দক্ষ,মেধাবী শিক্ষার্থীদের।
আজ পর্যটনের নাম করে অবৈধ ভূমি দখলও চলমান।নিজস্ব ভূমির অধিকার পর্যন্ত হারাচ্ছে জুম্ম জনগোষ্ঠী।এখন জুম্মজনগণ অনিরাপদ ও অনিশ্চিত জীবন অতিবাহিত করতে বাধ্য হচ্ছে। যা ভাবিয়ে তুলছে পুরো পার্বত্য অঞ্চলকে।অবৈধ ভাবে প্রতিদিন পার্বত্য বন ভূমি উজাড় হচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ভাঙ্গন, ভূমিধ্বস হচ্ছে।সংশয়ে রয়েছে হাজার হাজর জুম্ম জনগোষ্ঠীর প্রাণ।জুম্মদের প্রথাগত ভূমি দখল করে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
ভূমি বিরোধ ভাবিয়ে তুলছে জুম্মজনগণকে।অবৈধভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে সেটেল বাঙালিদের। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি দখল চলছে পার্বত্য অঞ্চলে।জুম্মজনগণের জীবনযাত্রা দারুন প্রভাব ফেলছে ভূমি দখল।নিজেদের ভূমি অধিকার হারাচ্ছে সেটেলদের কাছে।এই ভূমি দখল মানসিকতা সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে সরকারকে।ভূমি বিরোধ আইন নিশ্চিত না করা পর্যন্ত পার্বত্য এলাকায় শান্তি ফিরবে না।তাই পাহাড়িদের ভূমি অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে।
পার্বত্য চুক্তি বাস্ততবায়ন প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকারকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।না হলে শান্তি ফিরবে না পার্বত্য অঞ্চলে।বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার প্রচার করে আসছে, পার্বত্য চুক্তির মোট ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত করেছে এবং অবশিষ্ট ধারাগুলোর মধ্যে ১৫টি ধারা আংশিক বাস্ততবায়িত হয়েছে আর বাকি ৯টি বাস্ততবায়নে প্রতিক্রিয়াধীন রয়েছে।বস্তুত চুক্তির ব্যাপারে সরকারের এই বক্তব্য সত্য নয়।জনসংহতি সমিতি বক্তব্য অনুযায়ী চুক্তি মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে আর অবাস্তবায়িত রয়েছে ৩৪ টি এবং আংশিক বাস্তবায়িত ৯টি।তাহলে দেখা যাচ্ছে চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনো অবাস্তবায়িত রয়েছে।
চুক্তি নামে পায়তারা সরকারের বন্ধ করা প্রয়োজন। তা না হলে পার্বত্য এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে না।পায়তারার অনায়াসে এলাকায় উন্নয়ন,আইন-শৃঙ্খলা অবনিত ঘটবে।তাই চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে।

কুকিদের লোককাহিনীতে “বাঘের চালাকি”

কুকিদের লোককাহিনীতে “বাঘের চালাকি”

এককালে এক বিধবার এক মেয়ে ছিল।সে এত সুন্দরী ছিল যে তাকে বিয়ে করার জন্য দেশসুদ্ধ লোক পাগল হয়ে গেল।এক বাঘ জানত এক যাদুমন্ত্র।সে মন্ত্রবলে মানুষের রুপ ধারণ করে তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করলো।বিধবা ভয়ানক রাগান্বিত হলো।বাঘ মানুষটি মন্ত্রবলে মেয়েটিকে কুৎসিত আকারে রুপান্তরিত করলো।এই দশা দেখে বিধবার দুঃখে অন্ত রইলো না।সে ঘোষণা করলো,যে ব্যক্তি তার মেয়েকে ভাল করে দিতে পারবে তার সাথে মেয়েকে বিয়ে দেবেন।আর যদি কোন মেয়েমানুষ এই কাজ সমাধা করতে পারে তবে তাকে চিরদিনের জন্য বান্ধবী করে রাখবে।এইবার বাঘ-মানুষটি অন্য রুপ ধরে বিধবার ঘরে আশ্রয় নিল।কিছুদিন পর সে মন্ত্রবলে মেয়েটি সুস্থ করে তুললো। বাঘ-মানুষটি সাথে বিধবা নিজের মেয়ে বিয়ে দিলেন।দীর্ঘদিন থাকার পর বাঘ-মানুষটি তার স্ত্রীকে নিয়ে দেশে রওয়ানা হলো। কিন্তু পথিমধ্যে এসে বাঘ-মানুষটি নিজের রুপ বদলিয়ে আবার বাঘে পরিণত হলো।এই দৃশ্য দেখে মেয়েটি ভীষণ ভয় পেয়ে চিৎকার করতে শুরু করলো।তখন ফাচিভং ও রাংগচার নামে দুই ভাই অরণ্যভূমিতে জুম কাজে ব্যস্ত ছিল।তারা চিৎকার শুনে সামনে এগিয়ে এসে দেখে একটি বাঘ একটি মেয়েকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। দুই ভাই দা নিয়ে রুখে দাড়ালো মেয়েটিকে রক্ষা করতে।কিন্তু বাঘটি এমন হিংস্র ছিল যে তার ভয়ে বড় ভাই ফাচিভং দূরে সরে পড়লো।কিন্তু ছোট ভাই রাংগচার ছিলেন অত্যন্ত সাহসী । সে বাঘটিকে হত্যা করে মেয়েটিকে রক্ষা করলো।অতঃপর মেয়েটিকে বাড়ি নিয়ে আসার পর বড় ভাই মেয়েটিকে বিয়ে করলো।

_______________ Anonymous

বি:দ্র; খাসিয়া, নাগা ও কুকিদের লোককাহিনীতে বাঘ সম্পর্কে ধারণা।লোককাহিনীতে বাঘের নাম উল্লেখ।

খাসিয়াদের মানুষ উৎসর্গে প্রথার উৎপত্তি

“খাসিয়াদের মানুষ উৎসর্গের প্রথা উৎপত্তি”

চেরাপুঞ্জি পাহাড়ের বৃহৎ গর্তে এক থেলেন(অজগর) বাস করতো।এই থেলেনের প্রভাবে নাকি দেশে মড়ক দেখা দিত।মড়ক থেকে রেহাই পাবার উদ্দেশ্য একটি লোক সেই থেলেনকে একটি করে ছাগল উৎসর্গ করতো।এইভাবে লোকটির সাথে থেলেনের খুব খাতির জমে।পরবর্তীকালে লোকটি থেলেনকে ডাক দিলেই সে গোশতের লোভে হা করে চলে আসত।লোকরি মাথায় একবার দুর্বুদ্ধি জাগলো।সে থেলেনকে হত্যার অভিপ্রায়ে একটি লৌহ-শলাকা অগ্নিসংযোগে গরম করে থেলেনকে ডাক দিল। গোশতের লোভে থেলেন হা করে চলে আসতেই সে জলন্ত শলাকা তার মুখে পুরে দিল।ফলে থেলেন মারা গেল। তখন লোকটি থেলেনকে ছোট-ছোট খন্ড করে সব গোশত বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদেরকে পাঠিয়ে দিল খাওয়ার উদ্দেশ্য। কিন্তু ভূলক্রমে এক টুকরো গোশত এক পাথরে পড়েই ছিল।যে পাথরে গোশত টুকরো পড়ে ছিল সেই পাথর ছিল যাদুগুন।ফলে সেই গোশত থেকে হাজার-হাজার থেলেন(অজগরের) জন্ম হলো।তাদের উৎপাতে সবাই অস্থির হয়ে উঠলো।এখন আর মানুষ উৎসর্গ করা ছাড়া তারা কিছুতেই নিবৃত্ত হলো না।সেই থেকে মানুষ হত্যা করে অজগর পূজার রীতি খাসিয়া সমাজে বিস্তার লাভ করে।
বি:দ্র; আশ্বিন মাসে শুক্লপক্ষে এই পূজা অনুষ্ঠিত হতো।পরবর্তীকালে সরকারে কড়া শাসনের ফলে এই প্রথা বিলুপ্ত হয়, এখন মনুষ্য বদলে জন্তুজানোয়ার উৎসর্গ করা হয়।
(অরণ্য জনপদে)