চুক্তি নাকি প্রতারণা!

চুক্তি নাকি প্রতারণা!

আজ ২রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি দিবস। যা জুম্ম জনগণের কাছে এক ঐতিহাসিক দিন।শুধু জুম্ম জনগণের কাছে ঐতিহাসিক দিন বললে ভুল হবে, প্রকৃত পক্ষে এই দিনটি সারা বাংলাদেশের জনগণের কাছে এক ঐতিহাসিক দিন আর মাইলফলক। দীর্ঘ দু দশক সশস্ত্র জীবন কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আছে হাজার হাজার জুম্ম যোদ্ধা।তাদের স্বপ ছিল আকাশ ভরা তারা আর সূর্যের উজ্জ্বল রশ্মির মতো বাকি জীবন অতিবাহিত করার।যারা একসময় পরিবার,পরিজন,আত্মী-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল নির্জন পাহাড়ে সশস্ত্র লড়াইয়ে জীবনে ।যারা নিজের জীবনকে তুচ্ছ ভেবে সমাজ,জাতির অধিকার আদায়ে পক্ষে লড়াই করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল। যারা ত্যাগ করেছিল প্রেম,ভালবাসা আর বন্ধনের আবদ্ধ থাকা এইসব মোহকে।যারা একসময় যুদ্ধ আর সংঘর্ষকে ভালবেসে ছিল তাদেরও জেগেছিল শান্তির পায়তারা। ধ্বনিত হয়েছিল যুদ্ধ নয়,শান্তি চাই।
আজ থেকে ২৩ বছর আগে বাংলাদেশ সরকার(তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ) আর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।যাকে পার্বত্যচুক্তি নামে আখ্যায়িত করা হয়।চুক্তিতে মোট ৭২ধারা লিপিবদ্ধ করা হয়।পার্বত্য চুক্তির দীর্ঘ ২৩ বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও মৌলিক বিষয়গুলো এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে।যা ফল এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিফলিত হচ্ছে। চুক্তি অবাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্যবাসীর জীবনযাত্রা মানে প্রভাব পড়ছে। এখনও পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্জিত হয়নি রাজনৈতিক আর শান্তিপূর্ণ সমাধান।দিনদিন বাড়ছে সংঘর্ষ আর সংঘাত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ, আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন বিষয় ও কার্যাবলী কার্যকরণ এবং পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা,পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করণ,আভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তু ও প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের জায়গা-জমি প্রত্যপর্ণ ও তাদের নিজস্ব জমিতে পুনর্বাসন, সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার, অস্থানীয়দের নিকট প্রদত্ত ভূমি ইজারা বাতিল করা,পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকুরীতে জুম্মদের অগ্রাধিকার দেয়া, সেটেলার বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সম্মানজনক ভাবে পুনর্বাসন ইত্যাদি বিষয়গুলো বাস্ততবায়নে সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।বরং বাস্ততবায়ন করা নাম করে অবাস্তবায়িত রাখা ইত্যাদির অজুহাত পার্বত্য চট্টগ্রাম বসাবাসরত জুম্মদের উদ্বিগ্ন তুলছে।
চুক্তি মৌলিক বিষয়গুলো অবাস্তবায়িত হওয়ার কারণে সমন্বয় ঘটেনি আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদের শাসনব্যবস্থায়।বর্তমানে দলীয় প্রভাবের ভাটা পড়েছে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে।যার কারণে বিভিন্ন চাকুরীর জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে দলীয় প্রভাব।দুর্নীতির কারণে নিয়োগ পাচ্ছে অদক্ষ জনগোষ্ঠী।প্রতিক্ষণে ঝরে পড়ছে মেধাবীরা শিক্ষার্থীরা। চরম দুর্নীতি, অনিয়ম আর দলীয়করণের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থাকে চরম সংকটে দিকে ধাবিত করছে।বেকারত্বের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপে। ইউএনডিপির প্রাথমিক স্কুলকেও জাতীয়করণ করার উদ্যোগ করতে হবে সরকারকে।যাতে জুম্ম জনগোষ্ঠী শিক্ষায় আলোয় এগিয়ে যেতে পারে।নিয়োগ করতে হবে দক্ষ,মেধাবী শিক্ষার্থীদের।
আজ পর্যটনের নাম করে অবৈধ ভূমি দখলও চলমান।নিজস্ব ভূমির অধিকার পর্যন্ত হারাচ্ছে জুম্ম জনগোষ্ঠী।এখন জুম্মজনগণ অনিরাপদ ও অনিশ্চিত জীবন অতিবাহিত করতে বাধ্য হচ্ছে। যা ভাবিয়ে তুলছে পুরো পার্বত্য অঞ্চলকে।অবৈধ ভাবে প্রতিদিন পার্বত্য বন ভূমি উজাড় হচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ভাঙ্গন, ভূমিধ্বস হচ্ছে।সংশয়ে রয়েছে হাজার হাজর জুম্ম জনগোষ্ঠীর প্রাণ।জুম্মদের প্রথাগত ভূমি দখল করে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
ভূমি বিরোধ ভাবিয়ে তুলছে জুম্মজনগণকে।অবৈধভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে সেটেল বাঙালিদের। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি দখল চলছে পার্বত্য অঞ্চলে।জুম্মজনগণের জীবনযাত্রা দারুন প্রভাব ফেলছে ভূমি দখল।নিজেদের ভূমি অধিকার হারাচ্ছে সেটেলদের কাছে।এই ভূমি দখল মানসিকতা সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে সরকারকে।ভূমি বিরোধ আইন নিশ্চিত না করা পর্যন্ত পার্বত্য এলাকায় শান্তি ফিরবে না।তাই পাহাড়িদের ভূমি অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে।
পার্বত্য চুক্তি বাস্ততবায়ন প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সরকারকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।না হলে শান্তি ফিরবে না পার্বত্য অঞ্চলে।বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার প্রচার করে আসছে, পার্বত্য চুক্তির মোট ৭২ টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত করেছে এবং অবশিষ্ট ধারাগুলোর মধ্যে ১৫টি ধারা আংশিক বাস্ততবায়িত হয়েছে আর বাকি ৯টি বাস্ততবায়নে প্রতিক্রিয়াধীন রয়েছে।বস্তুত চুক্তির ব্যাপারে সরকারের এই বক্তব্য সত্য নয়।জনসংহতি সমিতি বক্তব্য অনুযায়ী চুক্তি মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে আর অবাস্তবায়িত রয়েছে ৩৪ টি এবং আংশিক বাস্তবায়িত ৯টি।তাহলে দেখা যাচ্ছে চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনো অবাস্তবায়িত রয়েছে।
চুক্তি নামে পায়তারা সরকারের বন্ধ করা প্রয়োজন। তা না হলে পার্বত্য এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে না।পায়তারার অনায়াসে এলাকায় উন্নয়ন,আইন-শৃঙ্খলা অবনিত ঘটবে।তাই চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে।

কুকিদের লোককাহিনীতে “বাঘের চালাকি”

কুকিদের লোককাহিনীতে “বাঘের চালাকি”

এককালে এক বিধবার এক মেয়ে ছিল।সে এত সুন্দরী ছিল যে তাকে বিয়ে করার জন্য দেশসুদ্ধ লোক পাগল হয়ে গেল।এক বাঘ জানত এক যাদুমন্ত্র।সে মন্ত্রবলে মানুষের রুপ ধারণ করে তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করলো।বিধবা ভয়ানক রাগান্বিত হলো।বাঘ মানুষটি মন্ত্রবলে মেয়েটিকে কুৎসিত আকারে রুপান্তরিত করলো।এই দশা দেখে বিধবার দুঃখে অন্ত রইলো না।সে ঘোষণা করলো,যে ব্যক্তি তার মেয়েকে ভাল করে দিতে পারবে তার সাথে মেয়েকে বিয়ে দেবেন।আর যদি কোন মেয়েমানুষ এই কাজ সমাধা করতে পারে তবে তাকে চিরদিনের জন্য বান্ধবী করে রাখবে।এইবার বাঘ-মানুষটি অন্য রুপ ধরে বিধবার ঘরে আশ্রয় নিল।কিছুদিন পর সে মন্ত্রবলে মেয়েটি সুস্থ করে তুললো। বাঘ-মানুষটি সাথে বিধবা নিজের মেয়ে বিয়ে দিলেন।দীর্ঘদিন থাকার পর বাঘ-মানুষটি তার স্ত্রীকে নিয়ে দেশে রওয়ানা হলো। কিন্তু পথিমধ্যে এসে বাঘ-মানুষটি নিজের রুপ বদলিয়ে আবার বাঘে পরিণত হলো।এই দৃশ্য দেখে মেয়েটি ভীষণ ভয় পেয়ে চিৎকার করতে শুরু করলো।তখন ফাচিভং ও রাংগচার নামে দুই ভাই অরণ্যভূমিতে জুম কাজে ব্যস্ত ছিল।তারা চিৎকার শুনে সামনে এগিয়ে এসে দেখে একটি বাঘ একটি মেয়েকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। দুই ভাই দা নিয়ে রুখে দাড়ালো মেয়েটিকে রক্ষা করতে।কিন্তু বাঘটি এমন হিংস্র ছিল যে তার ভয়ে বড় ভাই ফাচিভং দূরে সরে পড়লো।কিন্তু ছোট ভাই রাংগচার ছিলেন অত্যন্ত সাহসী । সে বাঘটিকে হত্যা করে মেয়েটিকে রক্ষা করলো।অতঃপর মেয়েটিকে বাড়ি নিয়ে আসার পর বড় ভাই মেয়েটিকে বিয়ে করলো।

_______________ Anonymous

বি:দ্র; খাসিয়া, নাগা ও কুকিদের লোককাহিনীতে বাঘ সম্পর্কে ধারণা।লোককাহিনীতে বাঘের নাম উল্লেখ।

খাসিয়াদের মানুষ উৎসর্গে প্রথার উৎপত্তি

“খাসিয়াদের মানুষ উৎসর্গের প্রথা উৎপত্তি”

চেরাপুঞ্জি পাহাড়ের বৃহৎ গর্তে এক থেলেন(অজগর) বাস করতো।এই থেলেনের প্রভাবে নাকি দেশে মড়ক দেখা দিত।মড়ক থেকে রেহাই পাবার উদ্দেশ্য একটি লোক সেই থেলেনকে একটি করে ছাগল উৎসর্গ করতো।এইভাবে লোকটির সাথে থেলেনের খুব খাতির জমে।পরবর্তীকালে লোকটি থেলেনকে ডাক দিলেই সে গোশতের লোভে হা করে চলে আসত।লোকরি মাথায় একবার দুর্বুদ্ধি জাগলো।সে থেলেনকে হত্যার অভিপ্রায়ে একটি লৌহ-শলাকা অগ্নিসংযোগে গরম করে থেলেনকে ডাক দিল। গোশতের লোভে থেলেন হা করে চলে আসতেই সে জলন্ত শলাকা তার মুখে পুরে দিল।ফলে থেলেন মারা গেল। তখন লোকটি থেলেনকে ছোট-ছোট খন্ড করে সব গোশত বিভিন্ন অঞ্চলের লোকদেরকে পাঠিয়ে দিল খাওয়ার উদ্দেশ্য। কিন্তু ভূলক্রমে এক টুকরো গোশত এক পাথরে পড়েই ছিল।যে পাথরে গোশত টুকরো পড়ে ছিল সেই পাথর ছিল যাদুগুন।ফলে সেই গোশত থেকে হাজার-হাজার থেলেন(অজগরের) জন্ম হলো।তাদের উৎপাতে সবাই অস্থির হয়ে উঠলো।এখন আর মানুষ উৎসর্গ করা ছাড়া তারা কিছুতেই নিবৃত্ত হলো না।সেই থেকে মানুষ হত্যা করে অজগর পূজার রীতি খাসিয়া সমাজে বিস্তার লাভ করে।
বি:দ্র; আশ্বিন মাসে শুক্লপক্ষে এই পূজা অনুষ্ঠিত হতো।পরবর্তীকালে সরকারে কড়া শাসনের ফলে এই প্রথা বিলুপ্ত হয়, এখন মনুষ্য বদলে জন্তুজানোয়ার উৎসর্গ করা হয়।
(অরণ্য জনপদে)

শেষ পর্ব-মানসী আজ উধাও

শেষ পর্ব- মানসী আজ উধাও

কয়েকদিন পর।রহিম এখন মানসীকে ছাড়া এক মুহূর্তও একা থাকতে পারেনা।তার শুধু মানসীকে দেখতে ইচ্ছে করে।রহিমে মন এখন মানসী প্রতি এত আকৃষ্ট হয়েছে যে সে শুধু মানসী দেখতে চাই আর চাই।এখন রহিম মানসীকে বারবার ফোন করতে থাকেন।মানসীর মনেও সন্দেহ জাগে।সে ভাবতে নিশ্চয় কোনো কারণ আছে।বারবার কথা বলার কারণে মানসীর মনও বদলে যায়।মানসীও আস্তে আস্তে রহিমের দিকে ঝুকে পড়ে।
এদিকে সুদীপ্ত আর মানসীকে ফোন করে করেনা।মানসীও এখন আর অতটা সুদীপ্ত ফোন করে না। এভাবে তারা দুজনে দূরে সরে যেতে থাকে।
ইদানীং মানসী আর রহিমে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়।তারা দুজন দুজনকে দেখার জন্য প্রতিদিন ক্যাম্পাসে এসে হাজির হয়।শুরু হয় আবার তাদের মাঝে নতুন করে কফি হাউস আর রেস্তোরায় যাওয়া।বার্গার, কফি আর বিবিয়ানী পার্টি এখন নিয়মিত হয়ে ওঠেছে।আড্ডা কারণে তাদের আর নিয়মিত ক্লাস করা হয়ে ওঠে না।
এদিকে নিয়মিত পার্টির কারণে মানসীর ম্যানিব্যাগের টাকাও ফুরিয়ে আসে।টাকা না থাকার কারণে মানসীর অবস্থা এখন বেহাল।
মানসীর এখন নিয়মিত বাবার কাছ থেকে টাকা চাই।নিয়মিত টাকা দেয়ার কারণে মানসীরর বাবা অস্থির হয়ে ওঠে।আজকাল মানসীর কেন এত টাকা লাগে সেই কথা মানসীর বাবা জানতে।বাবা জানতে চাওয়ায় মানসী নানা অজুহাত দেখায়।সে তার বাবাকে বলে আজকাল ভার্সিটিতে নানা সেমিনার আর প্রেজেন্টেশন চলে।এই কথা শুনার পর বৃদ্ধ বাবার আর কথা বলার সাহস থাকেনা। রহিমও সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করে। সে আজকাল মানসীর সব বিল দিয়ে দেয়।মানসীও রহিমে ফাঁদে পা দেয়।
আজকাল মানসী আর রহিম প্রেম ভালবাসায় হাবুডুবু খাচ্ছেন। তারা বিভিন্ন শপিংমলে মলে শপিং করতে যায়।শপিংমলে মানসীকে রহিমের সাথে তার সহপাঠীরা দেখতে পাই।আর সুদীপ্তকে জানিয়ে দেয়।সুদীপ্তও এ ব্যাপারে জানতে চাই।মানসী আর কিছু বলেনা।সে শুধু হাসে আর হাসে।এখন সুদীপ্তও মানসীকে ভুল বুঝতে থাকে।তাই মানসী রহিমে সাথে মেলামেশা করলেও সুদীপ্ত আর কিছু বলে না।
মানসী বন্ধুরা মানসী নানাভাবে বুঝাতে থাকে।সে যেন বেজাতিকে বিয়ে না করে।
কিন্তু কে শুনে কার কথা।মানসী আর পাহাড় আর পাহাড়িদের পাত্তা দেয় না।মানসী টাকার লোভে তার জন্মদাতা বাবা-মাকে প্রায় ভুলে যায়।
এদিকে অনার্সের কোর্সও শেষ হয়ে আসে।মানসী এখন থেকে বাবা-মার সাথে এমনকি পরিবারে লোকদেরর সাথেও কম কথা বলে।তার মামার সাথেও সে ভালভাবে কথা বলো না আর।সে শুধু রহিমের সাথে কথা বলতে চাই।
মানসী ভুলতে থাকে পাহাড় আর পাহাড়ের বাস করা মানুষদের।
কয়েকদিন মাস পর অনার্সে রেজাল্ট বের হয়।মানসী আর রহিম কিন্তু দুজনে ভাল মার্ক পেয়ে পাশ করে।মানসী আর রহিম দুজনে পালিয়ে বিয়ে করে।
কয়েকদিন পর মানসীর বাবা-মা মানসী বিয়ে সম্পর্কে জানতে পারে।এ কথা শুনার পর বাবা-মার মুখে শুধু চোখে জল।একদিন মানসীর বাবা-মা স্বপ্ন দেখতো মানসী ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে জনগণের সেবার করবে।সেই স্বপ্ন আজ শুধু স্বপ্নই থেকে গেল।বাবা-মার লালিত স্বপ্ন মানসী ধূলায় মিশিয়ে দিলেন।
বিয়ে কয়েক বছর হতে চলল।আস্তে আস্তে মানসী বুঝতে পারে রহিমের আসল চেহারা। রহিম এখন আর মানসীকে অতটা ভালবাসেনা।আস্তে তাদের সংসারের ভাঙ্গন লাগে।
।সে এখন মানসী কাছ থেকে বিয়ে পণ হিসেবে যৌতুক চাই।যৌতুক না পেলে রহিম দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাই।এতে মানসীর মনে আর সুখ,শান্তি থাকেন।সে ভুলে যায় সুখের দিনগুলি।কষ্ট তার দিনদিন প্রকট হতে থাকে।
এখন সে বুঝতে পারে লাভ জিহাদের আসল চোহারা।সে এখন পাহাড়ে ফিরতে চাই। কিন্তু তার পাহাড়ের ফেটা হয়ে ওঠে না।মানসী কান্নায় ব্যাকুল ওঠে।সে ভাবতে থাকে পাহাড়ের জনপদ,পাহাড়েরর লোকজনদের।সে নিজের ভুল বুঝতে।সে পাহাড়ে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কিন্তু আসতে পারেনা
অতঃপর সে আত্মহত্যা করতে কোনো দ্বিধাবোধ করেনা।এভাবে শেষ হয়ে যায় মানসী সুন্দর জীবন আর ম্যাজিস্ট্রেট হবার স্বপ্ন।

ছবি;সংগৃহীত

(মানসী মত হয়ে বহু পাহাড়ি মেয়ের জীবন এভাবে শেষ হয়ে যায়)

মানসী আজ উধাও

পর্ব-১ : মানসী আজ উধাও

অবশেষে ঢাকায় আসা হলো মানসীর।সে ঢাকায় একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হলেন।আজ তার প্রথমবার ঢাকায় আসা।দিনটি ছিল শুক্রবার।সাথে এসেছিলেন তার বাবাও।ফার্মগেটে এক আত্মীয় বাসায়(মামার বাড়ি) শুরু হলো এক নতুন জীবন।হঠাৎ ঢাকায় এসে তার মন বেশ অস্থির হয়ে উঠল।নতুন পরিবেশকে মানিয়ে নিতে তার একটু কষ্ট হলো।শুরু হলো ঢাকা শহরে তার পথচলা।শহরটা তার বেশ অচেনা-অজানা।সঙ্গীরাও তার প্রায় অপরিচিত। শহরটা ঘুরে দেখলেন।বড়-বড় ফ্ল্যাট দেখে তার বেশ ভাল লাগল।মনে মনে ভাবলেন ভবিষ্যতে সেও ঢাকায় একটা ফ্ল্যাট কিনে নেবেন। কয়েকদিন থাকার পর তার বাবা নিজ বাড়িতে চলে আসলেন।বাবা চলে আসায় তার মন একটু চঞ্চল হয়ে উঠল।তার মনও বাড়িতে আসতে চাইল।তবুও নিয়তি নিয়মে ঢাকায় থাকতে হলো।
ওদিকে ভার্সিটিও ক্লাসের তারিখ ঘোষণা করল।এভাবে কয়েকদিন চলে গেল।
কয়েকদিন পর ক্লাসে নিয়ে যাওয়ার জন্য মামার সাথে নীলক্ষেত গেলেন। বই,কলম,খাতা কিনে বাড়িতে চলে আসলেন।নীলক্ষেত যাওয়ার সময় দেখতে ফেলেন কয়েকজন জুম্ম শিক্ষার্থীকে।সে তো অবাক!তাদের দেখে তার মনে একটু স্বস্তি হল।ভাবলেন কয়েকজন জুম্মদের মত তিনিও একজন ঢাকায় পড়ুয়া। জুম্মদের ঢাকায় লেখাপড়া মানে একটু কদর।জুম্মরাও তাদের একটু আলাদাচোখে দেখে।অন্যদের মতো তিনিও এটা ভাবলেন।
মাঝে মাঝে তার মনে উকি মারে পাহাড়ের দিনগুলি।সে এভাবে সময় কাটায় সেই মধুরদিনগুলি ভাবতে ভাবতে।কত আনন্দের ছিল,কত খুনসুটি ছিল সেইদিনগুলি।

ভার্সিটির প্রথম ক্লাসের দিনটিও এসে গেল।সে ভার্সিটি গেলেন তার মামাকে সাথে করে।সে ঢুকে গেল ক্যাম্পাসের ভেতর।আর তার মামা বাইরে দোকানে উঠে পড়লেন। মানসী জন্য অপেক্ষায় থাকলেন। নতুন ক্লাস শুরু হল ১০টা বেজে।নতুন দিন ক্লাসে সবাই অপরিচিত।মানসী দেখলেন ক্লাসে হাতে গোনা কয়েক জন বাদে প্রায় সবাই বাঙালী। মানসী কয়েকজন জুম্ম শিক্ষার্থীর সাথে পরিচয় হলেন।আর কয়েক জন বাঙালি শিক্ষার্থীর সাথেও।কয়েকদিন চলে গেল।একে একে প্রায় সবাই পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন।
মানসী ভার্সিটি ভর্তি হয়েছেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগে।সে নিজ ডিপার্টমেন্ট জুম্ম শিক্ষার্থী ঝিনু চাকমা,কণিকা ত্রিপুরা, রিনা মারমা আর অর্কিড চাকমা সাথে পরিচিত হলেন।তাদের সাথে চলে তার কিছু পথচলা।গল্পে,আড্ডায় মেতে উঠল তাদের ক্যাম্পাস জীবন।এভাবে কিছু দিন চলে গেল।মানসী এবার গুটি কয়েক জন বাঙালি ক্লাসমেটের সাথে পরিচিতি হতে লাগলেন।তাদের মধ্যে রহিম,জান্নাতুল, ফেরদৌসি আর মৌসুমী নাম বেশি মানসীর কাছে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠল।কয়েকদিনে বাঙালি বন্ধুদের কাছে সহজসরল মানসী হয়ে উঠলেন অধিক প্রিয় আপনজন।এভাবে চলে যায় দিনের পর দিন।আস্তে আস্তে মানসী ভুলে যেতে লাগলেন নিজ জুম্ম শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের।বেশি বেশি মিশতে লাগলেন বাঙালিদের সাথে।মাসের পর মাসে এভাবে চলে যায়।মানসীর মনও বদলে যেতে থাকে।আস্তে আস্তে ভুলে যায় সে নিজের সংস্কৃতিকে।
বাঙালি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্যাম্পাসে স্মার্ট, স্টাইল, সুন্দর করে সেজে আসত।তাদের দেখে মানসীও স্মার্ট হয়ে ওঠে।স্মার্ট হয়ে ওঠার পর সে জুম্মদের আর কেয়ার/পাত্তা করে না।জুম্মরা মানসীকে অতটা খেয়াল রাখে না।মানসীও চলে যায়।সে এখন বাঙালিদের সাথে মেলামেশা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।স্মার্ট হয়ে ওঠার পর মানসীর খরচ বাড়তে লাগল।মানসী চিন্তায় পড়ে গেলেন।স্মার্ট বা আধুনিক হয়ে উঠতে গেলে তার প্রচুর টাকার দরকার।মানসী পরিবারও এত স্বচ্ছ ছিল না।

মানসীর বাড়ি খাগড়াছড়িতে।তার বাবা প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকতা করেন আর তার মা টুকটাক সেলাই কাজ করেন।মানসী পরিবারে বড় সন্তান। মানসীরা তিন ভাইবোন।বড় মেয়ে হওয়ার কারণে তাকে সবাই বেশি আদর,ভালবাসত।তার বাবা মারও স্বপ্ন মানসী বড় হয়ে চাকরী করে পরিবারে হাল ধরবেন।বাবা-মার লক্ষ্য ছিল মানসী বড় হলে ম্যাজিস্ট্রেট হবেন।মানসীরও স্বপ্ন ছিল ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া।লক্ষ্য পৌছার জন্য মানসী পরীক্ষা ভাল করতে থাকে।প্রাইমারী, হাই স্কুল আর কলেজ জীবন কাটে নিজের শহর খাগড়াছড়িতে।প্রতিটি পরীক্ষায় সেও ভাল রেজাল্ট করতে থাকে।
গ্রামের মানসী নাম সবাই জানত আর চিনতো। কারণ মানসী খেলাধুলা আর লেখাপড়ায় বেশ পারদর্শী ছিলেন । সে শিশুদের সাথে খেলতে বেশি পছন্দ করত।এভাবে সেইদিনগুলি চলে যায়।
নিয়তির বদলে মানসীও ঢাকায় চলে যায়।
ঢাকায় এসে ঠাই হয় মামার বাড়িতে।সেখান থেকে শুরু নতুন পথচলা।

পর্ব -২ মানসী আজ উধাও

ইদানীং সুদীপ্তও মানসীকে খুব একটা ফোন করে না।সুদীপ্তও ঢাকায় একটা পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি হয়।সুদীপ্তর সাথে মানসীর ৬ বছরে সম্পর্ক ছিল।পরিবারে ছাপে সুদীপ্ত বদলে যায়।সে পড়ালেখা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।তার স্বপ্ন, বিসিএস পাস করে এসপি হওয়া।সে পুরোদমে পড়ালেখা করতে থাকে।
এদিকে মানসী সুদীপ্তকে বারবার ফোন করে।এক দুবার রিসিভ করার পর সে আর মানসী কল রিসিভ করে না।মানসী খুব টেনশন করতে থাকে।শুধু ভাবে সুদীপ্ত কেন ফোন রিসিভ করে না।মানসীর কান্না পাই। বারবার ফোন করেও রিসিভ না করার কারণে মানসীর মনও বদলে যায়।মানসীও আস্তে আস্তে ভূলে যায় সুদীপ্তকে।এভাবে বাড়তে থাকে তাদের মাঝে দূরত্ব।
এদিকে ভার্সিটিতেও পুরোদমে শুরু হয়।মানসীও ক্লাস করতে প্রতিদিন ক্যাম্পাস হাজির হয়। অন্য জুম্ম শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে হাজির হয়।
কয়েকদিন চলে গেল।মানসীও বাঙালি বন্ধুদের সাথে মিশতে থাকে।যতদিন চলে যায় মানসী মনও বদলে যায়।বেড়ে যায় বাঙালিদের সাথে সখ্যতা।ক্যাম্পাস প্রতিদিন দেখা মেলে তাদের আড্ডা। আস্তে করে মানসীও বাঙালি সংস্কৃতি লালন করতে থাকে।আর ভালবাসতে থাকে বাঙালী সংস্কৃতিকে।ভুলে যায় নিজে সংস্কৃতিকে।
এভাবে কয়েক মাস যাবার পর শুরু হয় ১ম বর্ষে পরীক্ষা। চলে ২মাস পর্যন্ত। পরীক্ষার কারণে তাদের আড্ডা একটুও কমে যায়।কিন্তু কমেনি তাদের ফোনে যোগাযোগ। প্রতিদিন রহিম না হয় জান্নাতুল না হয় ফেরদৌস কেউ না কেউ মানসীকে ফোন করতে থাকে।
পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। ১মাস বন্ধ দেয়া ভার্সিটিকে।মানসীও অনেকদিন হলো বাড়িতে আসতে না।সে ছুটি বাড়িতে কাটাতে চাই।কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে বাড়িতে আসতে দেয় না।বলে তাদের সাথে ছুটি কাটাতে।রহিম মানসীকে এ ব্যাপারে অনেক বার ফোন করে।ওদিকে মানসী বাড়িতে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয় আছে। রহিম মানসী অনেক বোঝাতে থাকে,কিন্তু মানসীর মন বদলাতে পারলেন।রহিম অনেক অনুনয় করলেন, কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না।মানসীর লক্ষ্য বাড়ি যাওয়া।এভাবে ১ম বার পার পেয়ে গেলেন।চলে আসলেন খাগড়াছড়িতে।তখন ২০১৮ সালে নভেম্বর মাসে ২৬ তারিখ।বাড়িতে কয়েকদিন কাটিয়ে দিলেন।কয়েকদিন পর তার মন বেশ চঞ্চল ওয়ে উঠল।মনে উকি মাকে বাঙালি বন্ধুদের সাথে কাটানো দিনগুলি।এগুলো ভাবতে ভাবতে তার মন আরো বেশি অস্থির হয়ে উঠল।সিদ্ধান্ত নিলেন ঢাকায় ফিরে যাবেন।আর তাদের কয়েকদিন পর রেজাল্ট হওয়ার ও কথা ছিল।মানসীকে তার বাবা-মা তাকে আর কয়েকদিন বাড়িতে থাকতে বললেন। তবুও মানসী ঢাকায় যাওয়ার জন্য ব্যাকুল। অবশেষে বাবা-মার অনেক অনুনয়ে আর কয়েকদিন বাড়িতে থেকে গেলেন।আর বন্ধুরাও তাকে ফোনে কল করতে থাকেন।তার মন আরও চঞ্চল হয়ে ওঠে।
রেজাল্ট এর দিন এসে গেল।যথারীতি মানসীও ভাল মার্ক পেয়ে পাস করলেন।অন্য জুম্ম শিক্ষার্থী পাস করলেন।পাসে খরব পেয়ে মানসীর বাবা-মা আনন্দ উল্লাসিত। গ্রামে মানুষরা রেজাল্ট এর খবর জানতে পারলেন।তারা মানসী প্রশংসা করতে লাগলেন।করণ সবাই জানতেন মানসী ছোট কাল থেকে মেধাবী ছিলেন।
ভার্সিটির ছুটিও ফুরিয়ে এল।মানসীও ভর্তির ঢাকাসহ ঢাকা আসলেন।ভার্সিটি ভর্তির তারিখও ঘোষনা করে দিল।ডিসেম্বরে ২০তারিখ মানসী ক্যাম্পাসে এসে হাজির হলেন।সাথে বাঙালী বন্ধুরা আসলেন।যথারীতি ভর্তিও হয়ে গেলেন।ভর্তি হবার পর কিছুক্ষণ আড্ডা দিলেন।অনেকদিন পর সবাই সবার সাথে দেখা।জান্নাতুল বলল, কি খবর? মানসী।
মানসী বলল;এই কোনো মতে ভাল।মানসী পাল্টা প্রশ্ন করলেন তোমার অবস্থা কেমন?।ভাল, বলে দিলেন জান্নাতুলও।আবার রহিম মানসীকে প্রশ্ন করতে লাগলেন।প্রশ্নটা করলেন, পরিবারের সবাই কেমন আছেন?মানসী বলল ভাল।রহিমে প্রশ্ন করার কারণ টা এই রহিম মানসীকে একটু মনে মনে ভালবাসে।কিন্তু বলতে পারে না।
জানুয়ারি মাস চলে আসলো।ক্লাস রুটিন দেয়া হল।সবাই ক্লাসে আসলেন।
রহিম মানসীর প্রতি একটু দূর্বল ছিলেন।কারণ “ভালবাসা”। তাই বারবার মানসী সাথে কথা বলতে থাকেন…..

ছবি; সংগৃহীত

……..চলবে

কর্ণফুলীনদী নামকরণের ইতিহাস

কর্ণফুলীনদী নামকরণের উপাখ্যান

কর্ণফুলীর পূর্ব নাম ছিল কাঁইচা খাল।কি কারণে নদীকে কর্ণফুলী নামকরণ করা হয়,তার
উপাখ্যান ;
কোনো এক সময়ে চট্টগ্রামের এক মুসলমান বাদশাহর বেগম সাহেবার কর্ণফুল নদীগর্ভে পড়ে যায়।বেগম সাহেবা কর্ণফুলটির মায়া কাটাতে না পেরে সেটা তোলবার জন্য নদীর মধ্যে লাফ দিয়ে পড়েন। কিন্তু তার এমনই ভাগ্য যে সেই ফুল উদ্বার করা তো দূরের কথা,তিনি নিজেই নদীতে মৃত্যুবরণ করেন। সেই থেকে কাঁইচা খাল কর্ণফুলী নামে পরিচিত। বেগম সাহেবা কর্ণফুলের পরিবর্তে নিজে জীবন দান করে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
তথ্য;ক্যাপ্টেন হার্বাট লুইনের বিখ্যাত গ্রন্থ A fly on the wheel থেকে নেওয়া।

কর্ণফুলীনদী

“জামাই মারণী “চাকমাদের রুপকথার কাহিনী

_____জামাই মারনী_____

জামাই মারনী হলো চাকমা রুপকথার কাহিনী। এটি মূলত চন্দ্রঘোনার অনতিদূরে কর্ণফুলীনদীর তীরবর্তী সীতা পাহাড় অঞ্চলের জামেই মারনী বা জামাই মারনী স্থানকে কেন্দ্র করে রচিত। এই কাহিনীটি কালের বিবর্তনেও চাকমা সম্প্রদায়ের কাছে এখনও জনপ্রিয় একটি লোককাহিনী।
একটি রাজকন্যার জন্য হাজার হাজার রাজপুত্রে আত্মবলিদানও সত্যিই বিস্ময়কর। এতে রয়েছে কালজয়ী বীর- চরিত্র ও আত্মত্যাগে মহিমা।এই কারণে এটি শত বছর পরেও চাকমাদের কাছে খুব জনপ্রিয় আর স্মৃতিঅক্ষরে অঙ্কিত।এই কাহিনী শুধু চাকমাদের কেন,সারা বিশ্বে যেকোনো জাতির হৃদয়ে নাড়া দিতে পারে এর ভালবাসার নিবেদন।
হৃদয়ে এনে দিতে পারে অমোঘ রসানুভূতি।

চাকমায় ভাষা কাহিনীটি;
আক্ করি এক রাজা এল্।তাঘুন এক কোয়া হুব দোল ঝি এল্।তা দোল্ সম্বাদ দেজে-দেজে
ফগদাঙ অল্।আমাত্য বেক লগর গাভুর-গাভুর পো লগে তারে লভারদ্যই ছদফুত্যে অলাক্।পরে দি রাজা টিক-গরি দিলদে্ আক্ খান তারেঙ মাদাত্তুন যে ঝাম দি দ্যাই বড়গাঙ ওত পরি ন্যেই,সাজুরী ন্যেই, ওকুলে পার অই্ পারিবো,তারে তা ঝিব্ দিবো।কদ জনে ঝাম দি দি ম-লাগ্, পিজে এক দিন্যা এক রাজা পোয়্ এই ন্যেই রাজা ঝিরে পেবাদ্যাই ঝাম দি চেল্ হ।রাজা তারে ছ্যেইন্যে ঝাম দিবার ন দিল হ্।তা পর দিন্যে ঝাম দিবা হধা অল্।রেদোত রাজা হপ্পনে দেল দে্, এক কোয়া বুড়ী এ ন্যেই,রাজা রে বদ্দি শিগেই দিলদে্ বুগৎ-পিদৎ,দ্বি হাদৎ দ্বিবা বালোজ বানি দিজ্ আর হাদৎ এক কোয়া ছাদি ধরিন্যাই মিলি দিদ্ হোচ্।এই কই ন্যা সে বুড়ী মিলাবোয়া অদেঘা অল্।বেইন্যা ঘুমত্তুন উদিন্যাই রাজা পোয়াবোয়া রাজা হধা দগে বালোজ বানি ন্যাই ঝামি দিল।ঝাম দিন্যাই সাজুরি ন্যাই বড়গাঙ পার হইন্যা এ্যালহ্।রাজা হুজি অয়ন্যাই সেই রাজা পোয়াবোরে তা ঝিব দিল্।
________Anonymous

উল্লেখ কাহিনী অনুযায়ী হাজার হাজার রাজপুত্র জামাই হবার উদ্দেশ্য পাহাড় নদীতে
ঝাপ দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল বলে পাহাড়টি ‘জামাই মারনী ‘নামে প্রসিদ্ধ।

বি.দ্র. কপি করলে অবশ্যই কৃতজ্ঞতা দিবেন। না হলে কপিরাইট আইনে দন্ডিত হবেন।

‘জামাই মারণী ‘চাকমাদের রুপকথার কাহিনী

_____জামাই মারনী_____

জামাই মারনী হলো চাকমা রুপকথার কাহিনী। এটি মূলত চন্দ্রঘোনার অনতিদূরে কর্ণফুলীনদীর তীরবর্তী সীতা পাহাড় অঞ্চলের জামেই মারনী বা জামাই মারনী স্থানকে কেন্দ্র করে রচিত। এই কাহিনীটি কালের বিবর্তনেও চাকমা সম্প্রদায়ের কাছে এখনও জনপ্রিয় একটি লোককাহিনী। একটি রাজকন্যার জন্য হাজার হাজার রাজপুত্রে আত্মবলিদানও সত্যিই বিস্ময়কর। এতে রয়েছে কালজয়ী বীর- চরিত্র ও আত্মত্যাগে মহিমা।এই কারণে […]

‘জামাই মারণী ‘চাকমাদের রুপকথার কাহিনী

অশ্রু

কে তুমি,তুমি কার?
আমার নাকি আমাদের জনপদে।
তুমি কি হতভাগা দরিদ্র জনগোষ্ঠীতে
না উত্তমলোকের হৃদয়ে,
না আমার শরীরে।
তুমি নিবরে ভালবাসো সকলকে
তুমি রয়েছ পার্বত্য জনপদে প্রতিটি পদক্ষেপে
তোমার পা পড়েছে আমার দেহে
তুমি উলঙ্গ হয়ে জড়িয়ে আছ আমার
সশরীরে।
তুমি কেন আমার পরম বন্ধু হলে,
ছেয়ে আছো দানবের ভেসে
সূর্যের তীব্র রশ্মির তেজের মতো সেঁজে।
আমার কাছে আছো, যেন কারও
অভিশাপের অভিসপ্ত হয়ে।
তুমি কি বিলীন হবেন।
না কোনদিন চলে যাবে না
আমার থেকে।
নাকি রয়ে যাবে আমার মত খেতে খাওয়ার মানুষের দেহে।
তুমি তো আছ লোগাং থেকে লংগুদু হয়ে
নানিয়ারচর হতে রামুর তটভূমিতে।
তোমার বিস্তৃতিতে অস্থির হয়ে ওঠে
আমার দেহের প্রাণ
তুমি কি চিরজীবী নাকি চির অম্লান।
বেঁছে আছো আমার হতভাগার ঘরে
তুমি ঘিরে ধরেছো সমুদ্রের ঢেউ এ মত
আমার মনকে।
তুমি কেন আমাকে বারবার
তোমার ভালবাসায় সিক্ত করো।
তোমার ভালবাসায় আমি আজ অনুরক্ত আর বিরক্ত।
তুমি আর ভালবেসো না
আমার হৃদয়কে।

৫ই জুন ২০২০)

লোগাং এর কান্না

অশ্রুধার বন্ধ হয় না,ঝরে যায় ঝরে পড়ে
যেন থামতে চাই না আর।
কান্নার রোল থেমে যেতে চাই,
কিন্তু পারে না থামতে।
অস্থির হয়ে ওঠে আমার দেহ।
যখন উত্তেজিত হয় আমার হৃদয়
উঁকি মারে আমার ওপর বিরানব্বই (৯২) এর কালবৈশাখীর কথা,
হঠাৎ কেন জানি শুরু হয়, কালবৈশাখীর উত্তাপ
শুরু হয় তার লীলাখেলা, তান্ডবে অকালে ঝরে যায় অসংখ্য দুঃসাহসীর প্রাণ।
একে একে ঝরে পড়ে বৃদ্ধ, শিশু,তরুণ -তরুণীর, কিশোর-কিশোরীর প্রাণ।
যেন থামে না মৃত্যুর মিছিল।
ভূতের প্রধান কেন্দ্র হয় আমার বুক।
একে একে চলে যায় সবাই,কেউ উত্তর দেয় না
শুধু প্রশ্ন রেখে যায় ।
হারিয়ে যাবে বলে,
যেন থেমে যায় তাদের কত দুঃসাহসিক স্বপ্ন।
হাহাকার সৃষ্টি হয় ধরণীর বুকে।
কত স্বপ্ন ছিল তাদের,ধরণীকে সাজাতে।
অকালে ঝরে পড়ে তাদের লালিত সুন্দর স্বপ্ন।
আমিও হারায় আমার চেনাজানা আত্মীয় -স্বজনদের।
যারা আমার দেহ পার হয়ে অজানা গন্তব্যে যায়
বিকাল হলে আবার আমার সাথে দেখা করে।
তারাও নির্যাতনের শিকার হয়,তাদেরও প্রাণ দিতে হয় এসবের মাঝে।
হারিয়ে ফেলি
আমার চেনা, আমার জানা প্রিয় মুখদের।
রুপনন্দের মতো সহজ সরল, বাত্ত্যের মতো দুঃসাহসী
আর সাথে নাম না জানা অনেককে।
থমকে যায় আমার মুখ।
সব নিঃশেষ হয় আমার বুক।
খালি হয়ে যায় হৃদপিন্ডের ক্রিয়া।
আমি আজও কাঁদি তাদের স্মৃতি মনে ওঠে।
তাদের সাথে ছিল কত খুনসুটি , ছিল কত মেলবন্ধন।
কতো সুখের ছিল সেইদিনগুলি,
মাঝপথে হারিয়ে ফেলি, সুখের দরজা।
হারিয়ে ফেলি আমার নিশ্বাস
আজ তারাও হারিয়ে যায় আমার বুকে।
খুজে দেখি বুকে,খুজে পাই না কোথাও।
আমার মুখে ভাষা শেষ হয়ে যায়।
উধাও হয়ে যায় আমার কণ্ঠস্বর।
জিম্মি হয় আমার মুখ।
তাই করতে পারিনা অমোক স্মৃতিচারণা।
ইতিহাসের পাতাও নড়ে যায়,আমার বুকে বিরানব্বই এর ছাপ এলে।
আমি আতঙ্কিত, আমি শঙ্কিত, উত্তেজিতও হই।
প্রতিবাদ করি বারবার, কিন্তু সাড়া পাইনি কখনও।
লংমার্চ থেকে লংমার্চ, যেন মনে পড়ে
সেইদিনে লংমার্চ কে কিন্তু মনে রেখেছি এখনও।
খাগড়াছড়ি থেকে আমার আত্মহারা বুক পর্যন্ত।
হাজার হাজার উত্তেজিত তরুণ পা ফেলে আমার বুকের ওপর।
একটু স্বস্তি পাই তাদের দেখে।
কিন্তু সেই স্বস্তি নিশ্বাস এখনও ফেলতে পারিনি বুকে।
যখন পারবো ইতিহাসও হয়তোবা বদলে যাবে
এখনও সেইদিনে অপেক্ষায় আছি আমি।
যখন সবার বুকে লোগাং এর রক্ত স্মৃতি হবে।
অপেক্ষা আছিও যখন লোকে মুখে আমার কথা শুনবো।
পথে ঘাটে বলবে আমার কথা
যখন পথশিশু থেকে শাসকশ্রেণী রাজপূত্ররাও আমায় স্মরণ করবে।
তখন আমি অমোক ভাষণ করবো।
এখনও লোগাং এর অপেক্ষা আছি,
থাকবো চিরদিন।
অনুরোধ একটাই মনে রাখবে সবাই,
যেন সকলে মাঝে আমি স্থান পাই।